প্রশ্নের ফাদ – ২য় পর্ব

শুধু সব জানলেই পরীক্ষায় হয়ত ভালো করা যায়। কিন্তু একটু কৌশলগুলো ধরতে না পারলে, প্রশ্ন ফাঁদ বুঝতে না পারলে হয়তো কোয়ালিফাই হওয়া যায়না। নিয়োগ পরীক্ষায় পাশ ফেল বলে কিছু নেই। এখানে অন্যকে পেছনে ফেলেই সামনে এগোতে হয়। তাই হয়তো প্রশ্ন ফাঁদগুলো ধরতে জানতে হয়।

১। “চতুর্দশপদী ” নামের কবিতা কে লিখেছেন?
ক) মাইকেল মুধুসুদন দত্ত
খ) বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঘ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকার

ব্যাখ্যাঃ পরীক্ষার কেন্দ্রে ৯৯.,৯৯% পরীক্ষার্থীই এখানে ভুল করার সম্ভাবনা বেশি। চতুর্দশপদী কবিতা দেখলেই মাইকেল মধুসুদন দত্তের নামটা চলে আসে। আরো মজার বিষয় ১ম অপশনেই আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত উত্তর পেয়ে গেলেন। আহ! সব প্রশ্নই কমন। কিন্তু গুরু আপনি এখানে ও ভুল করলেন। “চতুর্দশপদী কবিতা ” বললে হবে মাইকেল মধুসুদন দত্ত, কিন্তু এখানে প্রশ্নে আছে “চতুর্দশপদী ” নামের কবিতা। অর্থাৎ কবিতাটির নাম “চতুর্দশপদী কবিতা ” নয়, শুধু “চতুর্দশপদী “, এর লেখক বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়। যা অপশন (খ) তে দেয়া আছে।

উত্তরঃ খ

২। চতুরঙ্গ কী?
ক) রবীন্দ্রনাথের নাটক
খ) দাবা খেলার আদি নাম
গ) একটি গ্রহ
ঘ) একটা যাত্রাদলের নাম

ব্যাখ্যঃ চতুরঙ্গ নামে রবীন্দ্রনাথ এর একটি রচনা আছে। সেটি আপনি অনেকবার পড়েছেন। উল্লেখ্য রবীন্দ্রনাথ থেকে প্রশ্ন বেশি আসে বিধায় আপনি তাঁর সম্পর্কে এত বেশি পড়েছেন যে তার সব সাহিত্যকর্ম আপনার মুখস্থ। আর তাই “চতুরঙ্গ ” কী এমন প্রশ্ন পাওয়া মাত্রই আপনি অপশনে রবীন্দ্রনাথকে খুঁজা শুরুও করে দিলেন। প্রশ্নকর্তা জানেন আপনার দুর্বলতা সম্পর্কে। তাই তিনি ইন্সট্যান্ট আপনার বিচক্ষনতা যাচাই করতে একটা ফাঁদ তৈরি করল। তাই রবীন্দ্রনাথকে ১ম অপশনেই দিয়ে দিল। এখানে উত্তর হবে অপশন (খ)। কিন্তু আপনিতো খুশিতে বাকবাকুম করতে করতে অন্য অপশনগুলো দেখে একটু চিন্তা ও করেননি। “চতুরঙ্গ ” হল রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস কিন্তু অপশনে দেয়া আছে নাটক, তাই এটি হবে না। অপরদিকে দাবা খেলার আদি নাম চতুরঙ্গ।

উত্তরঃ খ

৩। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমেরিকার পাঠানো সপ্তম নৌবহরের সমন্বয়ে কী গঠন করা হয়েছিল?
ক) টাস্কফোর্স ৫২
খ) টাস্কফোর্স ৭১
গ) টাস্কফোর্স ৫৪
ঘ) টাস্কফোর্স ৭৪

প্রশ্নের ফাঁদঃ উত্তরটি হয়তো আপনার জানা নেই। কিন্তু তবুও পরীক্ষার হলে একটু কমনসেন্স এপ্লাই করার চেষ্টা করবেন। যেহেতু ঘটনাটি মুক্তিযুদ্ধকালীন, সুতরাং উত্তর “টাস্কফোর্স ৭১” হবে বলে আপনি ধরে নিবেন। শেষ পর্যন্ত অপশন খ) টাস্কফোর্স ৭১ দাগিয়ে আসবেন। অতঃপর পিএসসি’র প্রশ্নের ফাঁদে পড়ে গেলেন। এর সঠিক উত্তর হবে ঘ) টাস্কফোর্স ৭৪।

উত্তরঃ ঘ

৪। একক রচনা হিসেবে বাংলা সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
ক) চর্যাপদ
খ) শ্রীকৃষ্ণককীর্তন কাব্য
গ) ডাকার্নব
ঘ) লাইলি মজনু

প্রশ্ন ফাঁদঃ যেহেতু অনেকদিন ধরে পড়ে এসেছেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ চর্যাপদ, সুতরাং পরীক্ষার কেন্দ্রের এক্সাইটমেন্ট ও কমন প্রশ্নে আপনি আর কিছু না ভেবেই উত্তর দিয়ে দিলেন ক) চর্যাপদ। অথচ অতিরিক্ত এক্সাইটমেন্ট এর কারণে আপনি খেয়ালই করলেন না, শুরুতে বলা আছে “একক রচনা হিসেবে প্রথম “। চর্যাপদ তো কেউ একা রচনা করেনি। আবার যারা প্রশ্নটি ভালোভাবে দেখেছেন তাদের কেউ কেউ অতি চালাকি করে ভেবে নিবেন “একক রচনা হিসেবে প্রথম ” কথাটি শুধু নার্ভাস করার জন্যই বোধহয় দিল। কিন্তু না, প্রশ্নে যথেষ্ট কারণ আছে। সঠিক উত্তর হবে খ) শ্রীকৃষ্ণককীর্তন কাব্য

উত্তরঃ খ

৫। I am Happy এর বাংলা অর্থ কী?
ক) আমি সুখি
খ) আমি সুখী
গ) আমি হ্যাপি
ঘ) আমি হয় সুখী।
:
প্রশ্ন ফাঁদঃ এই ধরনের প্রশ্ন বিসিএস এ মানসিক দক্ষতার অংশ। প্রশ্ন দেখা মাত্র আপনি মুচকি হেসে বললেন ক্লাস টু এর প্রশ্ন। অপশন ক দেখেই দাগাতে যাবেন, ঠিক এমন মুহুর্তে খ অপশনে গিয়ে আটকে গেলেন। কারণ দুটোর বাংলায় একই শুধু একটা শব্দের বানান “সুখি”, অন্যটি “সুখী “। এবার আপনি দ্বিধায় পড়ে গেলেন উত্তর ক হবে নাকি খ হবে। অনেক ভাবে অপশন হয়তো ক/খ দিয়ে আসলেন আর যথারীতি পিএসসি’র প্রশ্ন ফাঁদে পা দিয়ে বসলেন। প্রথম অপশন দুটি একই রেখে বানান চেঞ্জ করে দেয়ার অর্থই হচ্ছে আপনার দৃষ্টি যেন অপশন ১ম দুটির মধ্যেই থাকে। অথচ উত্তর কোনটিই না। উত্তর হল গ) আমি হ্যাপি। এখানে Happy অর্থ সুখি বুঝায়নি, বুঝালো কারো নাম। আর তাই তো শব্দটির ১ম অক্ষর বড় হাতের। কারো নামের ১ম অক্ষর বড় হাতের হয়।

উত্তরঃ গ