প্রশ্নের ফাদ – ১ম পর্ব

পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীকে সবচেয়ে বিপদে ফেলে কঠিনতম প্রশ্নটি, যা অনেকে বিভ্রান্তীর ভয়ে এড়িয়ে যায়, কিন্তু এর চেয়েও তাকে বিপদে ফেলতে পারে সবচেয়ে সহজ প্রশ্নটি। এমনি কিছু প্রশ্নের ফাদ নিয়ে ধারাবাহিক আয়োজনের ১ম পর্ব।

১। ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা ঊর্দুর প্রস্তাব করলে কে তার প্রথম বিরোধীতা করে?
ক) ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
খ) এ.কে ফজলুল হক
গ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
ঘ) আবদুল মতিন

ব্যাখ্যাঃ এই প্রশ্ন দেখেই আপনি খুশিতে আত্মহারা। কারণ বইতে অসংখ্যবার পড়েছেন এবং বিভিন্ন পরীক্ষায়ও এসেছে এধরনের প্রশ্ন। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তানের দাপ্তরিক ভাষা ঊর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে করার দাবি জানিয়েছেন। আর আপনিও মহাখুশিতে প্রথম অপশনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাম দেখে বৃত্তটা ভরাট করে দুঃখ ডেকে আনলেন। প্রশ্নটা আবার খেয়াল করুন। বলা হয়েছে, মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা ঊর্দুর বিরোধীতা কে করেন এবং সেটা ১৯৩৭ সালে। এর উত্তর হবে এ কে ফজলুল হক। আর পাকিস্তানের গণপরিষদের দাপ্তরিক ভাষা কেবল ঊর্দু হবে – এটার বিরোধীতাকারী ছিলেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সেটা ১৯৪৮ সালে। কিন্তু প্রশ্নে তো বলা হয়েছে অন্যটা, যা আপনি খেয়ালই করেননি।

উত্তরঃ খ

২। শাসন বিভাগকে বিচার বিভাগ হতে পৃথক করার কথা প্রথম কোথায় বলা হয়?
ক) যুক্তফ্রন্ট এর ২১ দফায়
খ) বাংলাদেশের সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদে
গ) ৬ দফায়
ঘ) প্রথম নির্বাচনী ইশতেহারে

ব্যাখ্যাঃ মুলত এটাও বিগত অনেক বছর পরীক্ষায় এসেছে এবং বইতেও প্রচুর পড়েছেন। সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করার কথা বলা আছে। প্রশ্ন কমন দেখে আপনি খ নং এর বৃত্ত ভরাট করে দিয়ে এসে নিজের পায়ে নিজেই আঘাত করলেন। যেহেতু ক্যান্ডিডেটস এবার বেশি প্রশ্নকর্তা একটু চালাকি করতেই পারেন। প্রশ্নে খেয়াল করুন সেখানে বলা হয়েছে, ‘পৃথকীকরনের কথা “প্রথম ” কোথায় বলা হয়েছে? ‘ এখানে মুল সমস্যাটা “প্রথম ” শব্দটা নিয়ে। সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা করার কথা বলা আছ, কিন্তু কথাটা প্রথম উল্লেখ আছে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার ১৫ নং দফায়।

উত্তরঃ খ

৩। ১০ এপ্রিল ১৯৭১ বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়?
ক) ৪টি
খ) ৮টি
গ) ৯টি
ঘ) ১১টি

ব্যাখ্যাঃ এটি সবাই পারবে একেবারে চোখ বন্ধ করেই। এমনকি যে মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রিপারেশন নেয়া শুরু করল সেও পারবে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয় সেটা। প্রশ্ন দেখা মাত্রই সবাই ১১সেক্টর কোথায় আছে সেটি খোঁজা শুরু করবে। আর এভাবেই পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে বসে থাকবেন। ১০ এপ্রিল ১৯৭১ বাংলাদেশকে ৪টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। পরেরদিন অর্থাৎ ১১ এপ্রিল ১৯৭১ বাংলাদেশকে আবার ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। কিন্তু প্রশ্নতো বলা আছে ১০ এপ্রিলের কথা।

উত্তরঃ ক

৪। Who is the present President of the National Assembly of Bangladesh?
a) Zillur Rahman
b) Abdul Hamid
c) Shirin Sharmin Chowdhury
d) Sheikh Hasina

ব্যাখ্যাঃ বাহ! প্রশ্নকর্তা তো বেশ সোজা প্রশ্ন করল। present President Abdul Hamid এটা কে না জানে! আপনি এত বেশি এক্সাইটেড যে পুরো প্রশ্নটা শান্ত মাথায় একবার ভালো করে পড়েও দেখলেন না। এখানেতো বাংলাদেশের present President কে জিজ্ঞেস করেনি। জিজ্ঞেস করল National Assembly of Bangladesh এর present President কে? যিনি স্পীকার থাকবেন তিনিই present President of the National Assembly of Bangladesh। অর্থাৎ উত্তর শিরীন শারমিন চৌধুরী।

উত্তরঃ C

৫। বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমান্ত জেলা ৩০টি এবং মায়ানমার এর সাথে রয়েছে ৩টি। বাংলাদেশের সাথে উক্ত ২টি দেশের মোট সীমান্ত জেলা –
ক) ৩২টি
খ) ৩৩টি
গ) ৩৪টি
ঘ) ৩৫টি

এমন প্রশ্ন দেখে পিএসসিকে আপনি বোকা ভাবতে শুরু করলেন। কারণ ভারতের সাথে ৩০ টা জেলার সংযোগ আছে আর মায়ানমারের সাথে আছে ৩টি। তাহলে মোট সীমান্তবর্তী জেলা ৩৩টি। এটা তো ক্লাস টু এর ছেলেও হিসেব করে বলে দিতে পারবে। গুরু এটা মানসিক দক্ষতার প্রশ্ন। ভারতের সাথে ৩০ টা জেলার সংযোগ আছে আর মায়ানমারের সাথে আছে ৩টি। কিন্তু এখানে একটি জেলা রাঙ্গামাটির সাথে ভারত ও মায়ানমার উভয়ের সংযোগ আছে। যার ফলে সীমান্ত জেলা ৩৩টা না হয়ে হবে ৩২ টা। যা অপশন ক তে আছে।

উত্তরঃ ক